তেল নিয়ে তেলেসমাতি: তেলমন্ত্রী থাকেন কোন দেশে?

জ্বালানি তেল নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড চলছে দেশে। রাস্তায় বের হলেই চোখে পড়ছে একটা অদ্ভুত দৃশ্য। সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে জায়গায় জায়গায়। এই সারি কোনো উৎসবের নয়, কোনো নতুন সিনেমার টিকিটেরও নয়। এই সারি জ্বালানি তেলের জন্য। শত শত মোটরসাইকেল, সিএনজি, প্রাইভেটকার সবাই দাঁড়িয়ে আছে পাম্পের সামনে। কারো চোখে বিরক্তি, কারো চোখে ক্লান্তি, কারো চোখেমুখে তীব্র ক্ষোভ। সবার একটাই প্রশ্ন—তেল কই? দেশের জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে যে বক্তব্য গণমাধ্যমে দিয়ে বেড়াচ্ছেন তেলমন্ত্রী, কোথায় সেই তেল?

দেশের নানা প্রান্তে তেলপাম্পগুলোতে ঝুলছে একটাই বোর্ড—তেল নেই। রোজার ঈদের আগ থেকেই শুরু হয়েছে এই দৃশ্য। দিন যত যাচ্ছে, এই দৃশ্য আরো স্থায়ী হয়ে উঠছে, চোখ সওয়া হয়ে উঠছে। বিভিন্ন তেল পাম্পের সামনে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। পাম্প মালিকরা বলছেন সরবরাহ নেই। ড্রাইভাররা বলছেন গাড়ি চালানোই দায় হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ পড়েছে এক চরম দুর্ভোগে। বিশেষত মোটরবাইকাররা, পাম্পের সামনে সবচেয়ে বড় ভিড় দেখা যাচ্ছে তাদের। বাইকারদের অভিযোগ, পাম্পের পর পাম্প ঘুরেও ২০০ টাকার তেল ভরতে পারছেন না।

কিন্তু এই বাস্তবতার ঠিক উল্টো ভাষ্য শোনা যায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দৃঢ় কণ্ঠে বলছেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। সবকিছু নাকি স্বাভাবিক, সরবরাহও ঠিক আছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে, এই যে হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, এই যে শত শত পাম্পে তেল নেই লেখা এগুলো কি কেবলই ভ্রম? নাকি আমরা সবাই কোনো সম্মিলিত ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে আছি?

ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার একটা বড়সড় ধাক্কা যে খেয়েছে, এটা সকলেরই জানা। তাদের ত্রিদেশীয় সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে Brent crude oil-এর দাম ছিল প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ডলার প্রতি ব্যারেল, সেখানে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে তা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হওয়ায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অস্থায়ী উল্লম্ফনও লক্ষ্য করা গেছে তেলের বাজারে।

জ্বালানি তেলের জন্য গোটা বিশ্বকেই নির্ভর করতে হয় মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর। অথচ সাম্প্রতিক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হলো মধ্যপ্রাচ্য। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে এসেছে বন্ধ  হরমুজ প্রণালী। আমেরিকা-ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণ মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে ইরান। অথচ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ ভাগ জ্বালানি পরিবাহিত হয়। এই পরিবহণ বন্ধ থাকার ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা ও বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা একসঙ্গে কাজ করে তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি তৈরি করেছে। এরইমধ্যে ফিলিপাইন জ্বালানি ব্যবহারে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। কিন্তু আমাদের জ্বালানি মন্ত্রী বলছেন দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক, দামও অপরিবর্তিত। কিন্তু মাঠের অবস্থা একেবারে ভিন্ন।

 

বাস্তবতা আর বক্তব্যের এই বিস্তর ফারাকই আজকের মূল সংকট। সরকার বলছে সরবরাহ স্বাভাবিক, কিন্তু মাঠের চিত্র বলছে ঠিক তার উল্টো। এই দ্বৈততা মানুষের মধ্যে কেবল বিভ্রান্তিই তৈরি করছে না, মানুষের আস্থার জায়গাটাকেও নাড়িয়ে দিচ্ছে। মানুষ যখন নিজের চোখে এক বাস্তবতা দেখে, কিন্তু রাষ্ট্র তাকে বলে অন্য কিছু, তখন সেই ব্যবধানটা আর কেবল তথ্যগত থাকে না, তা হয়ে ওঠে বিশ্বাসের সংকট। এ সংকট থেকেই তৈরি হয় অস্থিরতা।

যে কোনো দেশের জ্বালানি খাত এমন একটি ক্ষেত্র, যা সরাসরি দেশের অর্থনীতির শিরায় শিরায় প্রবাহিত হয়। এখানে সামান্য ব্যত্যয়ও পুরো ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে দিতে পারে। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, পণ্যের দাম বাড়ে, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়। আর এই সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়ে নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সবার জীবনে। দিন যত গড়াচ্ছে, সেই আশঙ্কাই ঘনিভূত হচ্ছে দেশে।

বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা মূলত পরিচালনা করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC)। এই সংস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। দেশের নিজস্ব তেল উৎপাদন কার্যত নেই বললেই চলে। অর্থাৎ আমরা পুরোপুরি জ্বালানি আমদানিনির্ভর একটি দেশ।

বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশে সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রাখা হয়। কখনো কখনো পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি ৬০ দিন পর্যন্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা যেমন সংরক্ষণাগারের স্বল্পতা, লজিস্টিক দুর্বলতার কারণে খুব বেশি সংরক্ষণের সুযোগ আমাদের নেই। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হলে, খুব বেশি দীর্ঘ সময় স্টক দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও নেই। আমাদের জ্বালানি সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্ভর করতে হয় নিয়মিত আমদানির ওপর। চলমান যুদ্ধের কারণে বাঁধা আসছে এই আমদানির ওপরই। এ কারণে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য সংকটটা অন্যদের চেয়ে গভীর।

জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশ প্রধানত নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং কাতার এসব দেশ থেকে তেল বেশি আসে। চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশের আমদানি উৎস প্রত্যেকটা দেশই কমবেশি আক্রান্ত। ফলে আমরা শুধু যে দাম বাড়ার আশঙ্কায় আছি তা না, আমাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় পুরো সরবরাহ চেইনটাই ভেঙে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ফিক্সড প্রাইস কন্ট্রাক্ট তুলনামূলক কম। ফিক্সড প্রাইস কন্ট্রাক্ট এর বদলে স্পট মার্কেট থেকে তেল কেনার প্রবণতা আমাদের বেশি। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই এর চাপ সরাসরি এসে পড়ে আমাদের দেশের ওপর। অর্থাৎ আমরা দামের ধাক্কা খুব দ্রুত অনুভব করি অন্যান্য দেশের চেয়ে। এজন্য অন্যদের চেয়ে আমরা বিপদে পড়ি দ্রুত। সেই বিপদকালীন অবস্থাই ক্রমে ঘনিভূত হচ্ছে দেশে।

এখন প্রশ্ন হলো এই বিপদ মোকাবেলায় আমরা কতটা প্রস্তুত? জ্বালানি তেল নিয়ে ক্রমবধর্ধমান সংকট কতদিন সামাল দেওয়া সম্ভব আমাদের পক্ষে?

যদি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে শুধু দাম বাড়ে, তাহলে টেনেটুনে ৩–৬ মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রেও নিতে হবে বাড়তি ভর্তুকি প্রদান, দাম সমন্বয় এবং রেশনিংয়ের মতো পদক্ষেপ। কিন্তু যদি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে,
তাহলে ১–২ মাসের মধ্যেই প্রকট চাপে পড়ে যাব আমরা। যে চাপ সামলানো হয়তো অসম্ভব হয়ে পড়বে নানা দিক থেকে। এজন্য সময় হাতে থাকতেই পথ খুঁজতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে সমস্যাটা কোথায়?

জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্য যদি সঠিক ধরে নিই, তাহলে খুঁজে বের করতে হবে সরবরাহ চেইনে কোথাও গলদ, নাকি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা? নাকি এর পেছনে আছে কোনো অদৃশ্য সিন্ডিকেট, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে? যদি সত্যিই তেলের কোনো সংকট না থাকে, তাহলে তেল পাম্পগুলো খালি কেন? আর যদি সংকট থাকে, তাহলে তা স্বীকার করতে এত অনীহা কেন সরকারের?

চলমান জরুরি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বচ্ছতা। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও জটিলতা সম্পর্কে মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতি জানানো, সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা করা, এবং সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরা, এটাই হওয়া উচিত সরকারের প্রথম কাজ। কারণ যে কোনো সংকট যত বড়, তার চেয়েও বড় বলে হয়ে দাঁড়ায় যখন মানুষ মনে করে, তাদের সাথে সত্য বলা হচ্ছে না। সত্য আড়াল করার চেষ্টা করলে মানুষ প্রতারিতবোধ করে এবং দ্রুত বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

মাঠের চিত্র এখন অনেকটাই সেরকম। পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি, চলছে বিক্রয়কর্মী ও তেলক্রেতাদের তর্কাতর্কি, ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলি। কোথাও কোথাও ঠেলাঠেলি হাতাহাতি পর্যায়েও পৌঁছে যাচ্ছে। পাম্প মালিকরা বলছে এক কথা, জ্বালানি মন্ত্রী বলছেন আরেক কথা। মানুষ বুঝতে পারছে না কার কথা বিশ্বাস করবে।

তেল নিয়ে তেলেসমাতি বলে যে কথাটা বলেছি শিরোনামে, এটি এখন আর কেবল রূপক নয়, এটি বর্তমানে বাস্তবতার নির্মম প্রতিফলন। তেলের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা পাম্পের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ, পাম্প কর্তৃপক্ষ আর মন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে যখন কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে আসে, তেলমন্ত্রী আসলে থাকেন কোন দেশে? তার বক্তব্যের সাথে পাম্প মালিক বা সাধারণ ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মিল নেই কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো খুব জটিল নয়। মন্ত্রী মহোদয় হয়তো থাকেন এমন এক পরিসংখ্যানের দেশে, যেখানে সবকিছু ঠিকঠাক কাগজে কলমে। মন্ত্রী তেলের সংকট দেখেন না। কিন্তু আমরা দেখি। আমরা যে বাস্তবের বাংলাদেশে থাকি, সেখানে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। তেলের জন্য মাথা ফাটাফাটি করার মতো দশা তৈরি হচ্ছে পাম্পগুলোর সামনে। এই সংকট দ্রুত নিরসন করা জরুরি।

কারণ, যখন মাঠের বাস্তবতা আর সরকারি ভাষ্যের মধ্যে ফারাক তৈরি হয়, তখন সংকটের গতি হয় আরো দ্রুত। পারস্পারিক অনাস্থা ও অবিশ্বাসের সুযোগে তীব্র বেগে ধেয়ে আসে সংকট। এ অবস্থা মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দায়িত্বশীল, সংযত এবং বাস্তবভিত্তিক যোগাযোগ। একজন নীতিনির্ধারকের কাছ থেকে মানুষ সত্যটা জানতে চায়। সংকট থাকলে সেটি স্বীকার করা, কারণ ব্যাখ্যা করা এবং সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরা—এই তিনটি বিষয়ই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বিশেষ করে এমন একটি সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিরাজ করছে অস্থিরতা, সরবরাহ রয়েছে সমূহ ঝুঁকির মধ্যে এবং পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে দেশের মানুষ, তখন সরকারের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে প্রতিটি বক্তব্য দিতে হবে মেপে মেপে। একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা বাস্তবতাবিবর্জিত মন্তব্য শুধু বিভ্রান্তিই তৈরি করে না, বরং তা জনমনে আস্থার সংকটকে আরও গভীর করে। এজন্য এসব কেতাবি কথাবার্তা বাদ দিয়ে মানুষের কাছে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক জরুরি তিনটা পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

প্রথমত, বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত আমদানির ব্যবস্থা করা। যেমন আফ্রিকা বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশ থেকে আমদানি করা যায় কিনা, তা খুঁজে দেখা। দ্বিতীয়ত, স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ বা কৌশলগত মজুত বাড়িয়ে অন্তত ৯০ দিনের লক্ষ্য নিয়ে এগোনো। তৃতীয়ত, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, যাতে কোনো কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি তৈরি না হয়। তেলের মজুদ থাকার পরেও কোনো অসাধু চক্র যেন বাজার নিয়ন্ত্রণ করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে।

সবশেষে এ কথা খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে যে, বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে বৈশ্বিক অস্থিরতা সরাসরি আমাদের ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি আমরা। এ সংকট নিয়ে হেলাফেলা করে নষ্ট করার মতো সময় হাতে নেই। কারণ, এ সংকটের একমাত্র সমাধান নির্ভর করছে কত দ্রুত এবং কতটা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তার ওপর।

লেখক: কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক

অর্থনীতি বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top