চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলায় মোট ৩০ জন আসামি ছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সবাইকে দণ্ডিত করেছেন।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন– রবিউল ইসলাম নয়ন, বিভুতি ভূষন রায় ও আরিফুজ্জামান জীবন।
তিনি আরও বলেন, ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রহমান বাচ্চু, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, মো. মশিউর রহমান, আসাদুজ্জামান মন্ডল ও পোমেল বড়ুয়া।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– মারুফ হোসেন, শাহা নুর আলম পাটোয়ারি ওরফে সুমন, রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান তুফান, এমরান চৌধুরী আকাশ, মাসুদুল হাসান মাসুদ, মাহবুবুর রহমান বাবু, ড. সারোয়াত হোসেন চন্দন ও শরিফুল ইসলাম।
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– মনিরুজ্জামান পলাশ, মাহফুজুর রহমান শামিম, ফজলে রাব্বি, আতার হোসাইন, সেজান আহমেদ, ধনঞ্জয় ওরফে টগর, বাবুল হোসাইন, নূরনবী মন্ডল, নূর আলম মিয়া এবং আমির হোসেন আমু।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ও ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার পারভেজ আপেলকে তার হাজতবাসের সময়কালকেই দণ্ড হিসেবে গণ্য করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়ে বাংলাদেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশে গণতন্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক শাসন কায়েম হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠদের মতোই তিনি আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন।
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঘটনার সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করায় এনটিভির সংবাদকর্মীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণার সময় কমন রেসপন্সিবিলিটি, এইড অ্যান্ড এমেন্ডমেন্ট এবং জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের উপাদানগুলো বিবেচনায় নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনাটি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আজ সেই ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।




