চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে শুরুতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। নতুন বলে দারুণ স্পেল করেন নিউজিল্যান্ডের পেসার উইল ও’রুর্ক।
ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশের ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে টাইগারদের সংগ্রহ ২৬৫ রান।
ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই উইকেট হারান সাইফ হাসান।
উইল ও’রুর্ক অফ স্টাম্পের বাইরের বল ঠিকভাবে খেলতে পারেননি তিনি, ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক টম ল্যাথামের গ্লাভসে। কোনো রান না করেই ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।
দ্বিতীয় ওভারে একবার সুযোগ তৈরি করেও সফল হতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ন্যাথান স্মিথের বল প্যাডে লাগার পর জোরালো আবেদন করা হলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি।
তৃতীয় ওভারে আবার আঘাত হানেন ও’রুর্ক। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তানজিদ হাসান। ৫ বলে ১ রান করে ফিরে যান তিনি।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার ও শান্ত। সৌম্য কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেললেও পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। ৩৮ বলের ছোট্ট জুটিতে আসে ২৩ রান। তবে আবারও ও’রুর্ক আঘাতে ভাঙে এই জুটি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানায় লেগে বল গিয়ে লাগে স্টাম্পে। ২৬ বলে ১৮ রান করেন সৌম্য। ফলে ১০ ওভারর আগেই বাংলাদেশকে খোঁয়াতে হয় টপ অর্ডারকে।
শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে চট্টগ্রামে ইনিংস গড়ার পথে ভরসার জুটি গড়েন শান্ত ও লিটন। চতুর্থ উইকেটে ধীরে শুরু করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রানের গতি বাড়ান এই দুই ব্যাটার।ইনিংসের ২৬তম ওভারে শান্ত পৌঁছে যান ব্যক্তিগত অর্ধশতকে, ৭০ বলে ফিফটি করেন তিনি। পরপর দুই ম্যাচেই ফিফটির দেখা পান এই অধিনায়ক। অন্যদিকে লিটন শুরুতে বেশ সংযত ছিলেন, ঝুঁকি না নিয়ে উইকেটে টিকে থাকার দিকেই মনোযোগ দেন।
২৯তম ওভারে এসে লিটনের ব্যাট থেকে আসে প্রথম বাউন্ডারি, সেটিও ৬০ বল খেলার পর। জেডেন লেনক্সকে চার মেরে স্বস্তি পান এই ডানহাতি ব্যাটার। পরের ওভারে বেন লিস্টারের বিপক্ষে আরেকটি চার মেরে জুটির রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান তিনি।
লিটনও তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি, যদিও শুরুটা ছিল ধীরগতির। প্রথম ৫৯ বলে তিনি শুধু সিঙ্গেল-ডাবলেই সীমাবদ্ধ ছিলেন।
৩৯তম ওভারে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ উইকেট জুটি। লেনক্সের বলে স্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন লিটন দাস। ১৭৮ বলের জুটিতে আসে ১৬০ রান। ৯১ বলে ৭৬ রান করে ফেরেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
এরপর ইনিংসের হাল ধরেন শান্ত। ৪১তম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি, ১১৪ বলে তিন অঙ্ক ছোঁন তিনি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক। তবে বড় ইনিংস খেলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্ত। ৪৩তম ওভারে লেনক্সের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন তিনি।
শেষদিকে দ্রুত রান তুলতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ২০ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু ৪৮তম ওভারে ডিন ফক্সক্রফটের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিরাজ। ১৮ বলে ২২ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর শেষ ওভারে জোড়া আঘাত হানেন বেন লিস্টার। প্রথমে শরিফুল ইসলামকে কিপারের ক্যাচে ফেরান, রিভিউ নিয়ে আউট নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। পরের বলেই তানভির ইসলাম বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। হৃদয় ২৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন, বাংলাদেশের থামে ২৬৫ রানে।




