বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে নওগাঁর এ.টিম মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হ্যাক ও অপপ্রচারের অভিযোগ
নিজের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের জবাব দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, গত ৫ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ (অপপ্রচার) করা হচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন মায়েদের ওপর হাত দেওয়া হয়েছিল, তখন সারাদেশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, ইদানীং কেউ কেউ মায়েদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করছেন। যদি মায়েদের সম্মান করতে না পারেন, হুমকি-ধমকি বন্ধ না করেন, তবে জুলাইয়ের মতো আবারও আন্দোলন হবে।
নওগাঁকে দেশের খাদ্যভাণ্ডার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোট্ট এই জেলাটি দেশের খাদ্যের যোগান দিলেও তারা ন্যায্য অধিকার পায়নি। উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষি শিল্পের রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছি। আল্লাহ সুযোগ দিলে এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও উন্নতমানের মেডিকেল কলেজ করা হবে। এছাড়া আম, কুল ও লিচু চাষিদের সুবিধার্থে একাধিক হিমাগার (সংরক্ষণাগার) নির্মাণ করা হবে।
নেতৃত্ব ও শিক্ষা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আমরা শুধু রাজার ছেলে রাজা এবং বংশপরম্পরায় নেতৃত্ব-এটা চাই না। একজন ভ্যানচালকের ছেলে যদি মেধাবী হয়, তবে তাকেও দেশ পরিচালনা করার ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া ছাত্রীদের জন্য মাস্টার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে।
তিনি ঘোষণা করেন, আমাদের অঙ্গীকার-আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেবো না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত নয়। আমরা এমন নিরাপদ জনপদ গড়তে চাই, যেখানে মায়েদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না।
লুন্ঠিত টাকা উদ্ধার ও দুর্নীতি দমন
বিগত সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন না করে নিজেদের উন্নয়ন করেছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ইনশাআল্লাহ আমরা কথা দিচ্ছি, ক্ষমতায় গেলে নতুন করে আর কাউকে চুরি ও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না। আর লুন্ঠিত টাকা পেটের মধ্যে হাত দিয়ে বের করে আনা হবে, যা সরকারের কোষাগারে যুক্ত হবে।
উত্তরবঙ্গ হবে কৃষি শিল্পের রাজধানী
নওগাঁ ও উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের খাদ্য ভাণ্ডারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে ছোট্ট এই জেলাটি। কিন্তু তারা তাদের ন্যায্য অধিকার পায়নি। উত্তরবঙ্গকে আমরা ইতিমধ্যে কৃষি শিল্পের রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছি। এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও উন্নত মানসম্মত মেডিকেল কলেজ করা হবে। আম, কুল ও লিচু সংরক্ষণের জন্য একাধিক হিমাগার (সংরক্ষণাগার) নির্মাণ করা হবে।
নারীদের শিক্ষা ও মেরিটোক্রেসি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রীদের জন্য আমাদের বিশেষ কর্মসূচি থাকবে। মাস্টার্স পর্যন্ত তাদের বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা শুধু রাজার ছেলে রাজা এবং বংশপরম্পরায় নেতৃত্ব-এটা চাই না। একজন ভ্যানচালকের ছেলে যদি মেধাবী হয়, তবে তাকেও দেশ পরিচালনা করার ব্যবস্থা করব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অঙ্গীকার-আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেবো না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত নয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে মায়েদের প্রতি কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না, এমন নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




