জুলাই বিপ্লব ও আবু সাঈদ সম্পর্কে জানতে চাইলেন ওজিল

বাংলাদেশ সফরে এসে ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লব এবং শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জার্মান ফুটবল কিংবদন্তি মেসুত ওজিল। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এর আগে ডাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন ওজিল।

ডাকসুর ভিপি সাধারণ সাদিক কায়েম জানান, সাক্ষাৎকালে ওজিল জুলাই বিপ্লব, নতুন বাংলাদেশ এবং শহীদ আবু সাঈদ সম্পর্কে জানতে চান।

ওজিলের সঙ্গে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ান এবং তুর্কি দাতব্য সংস্থা টীকার প্রতিনিধিরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ডাকসুর প্রতিনিধি সাদিক কায়েম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও ফুটবলার মেসুত ওজিল

সাদিক কায়েম বলেন, ওজিল ও বিলাল এরদোয়ান বাংলাদেশ সম্পর্কে আগেই পড়াশোনা করে এসেছেন। আলোচনার শুরুতেই ওজিল জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট এবং এই আন্দোলনে আবু সাঈদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন।

তিনি বর্তমান তরুণ প্রজন্মের ভাবনা এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের সম্ভাবনা সম্পর্কেও জানতে চান।তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রায় ৩ কোটি টাকার সংস্কার কাজ টীকার অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রকল্পের উদ্বোধনেই অংশ নেন ওজিল। এছাড়া তুরস্কের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার কাজও শিগগির শুরু হবে।

আলোচনায় বাংলাদেশের ফুটবল ফ্যানবেজ এবং ফুটবলের উন্নয়ন নিয়েও কথা হয়। সাদিক কায়েম ওজিলকে বাংলাদেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে সহযোগিতার আহ্বান জানালে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন। ওজিল জানান, বর্তমানে অনুশীলনে না থাকায় কোনো প্রীতি ম্যাচ খেলা সম্ভব নয়, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে তার।

তুর্কি স্কলারশিপ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান সাদিক কায়েম।

ওজিলের সফরের বিষয়টি আগে প্রকাশ না করার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত বিষয় এবং আয়োজকদের অনুরোধেই বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।

ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।ডাকসুর পক্ষ থেকে ওজিল ও বিলাল এরদোয়ানকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার স্মারক উপহার দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন এবং সেখানে ইফতার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top