সর্বশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।
জুলাই জাতীয় সনদের ওপর জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। গণভোটের ব্যালটে থাকবে চারটি প্রশ্ন। একেকটি উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’র মাধ্যমে দিতে হবে।
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে— সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
জুলাই সনদে যা রয়েছে— জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া প্রস্তাবের ওপর জনগণের সম্মতি আদায়ের লক্ষ্যে গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে খসড়া সনদের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, (১) গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হলে—
ক) এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা (constituent power) প্রয়োগ করতে পারবে।
খ) উক্ত নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গ) পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর ২৭০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে জনগণের সার্বভৌমত্ব ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে এই আদেশের তফসিল-১ বর্ণিত জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা সম্পন্ন করার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো এই ধারার (ঙ) উপধারায় বলা হয়েছে- উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে এর কার্যসম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সংবিধান সংস্কার বিল পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং তা সংবিধান সংস্কার আইনরূপে কার্যকর হবে।
জুলাই সনদের তফসিল-১ এ বর্ণিত মোট ৪৮ টি সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবনা:
১. সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩-এ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’র সঙ্গে বাংলাদেশে বসবাসরত অন্যদের মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
২. অনুচ্ছেদ ৬(২) এ ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি ও নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি বলে পরিচিত হবেন’ এর স্থলে ‘বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশি বলে পরিচিত হবে’ প্রতিস্থাপিত হবে।
৩. সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানে সংবিধান সংশোধনে শুধু দুই তৃতীয়াংশ সদস্যগণের ভোটে গৃহীত হয়। জুলাই সনদ অনুযায়ী ৮, ৪৮,৫৬, ১৪২ ও নতুনভাবে গৃহীত ৫৮ (ক)(২ক)সহ (খ)(গ)(ঘ)(ঙ) অনুচ্ছেদ সমূহ সংশোধনে দুই তৃতীয়াংশ ভোটে সংসদে পাশের পাশাপাশি গণভোটের প্রয়োজন হবে।
৪. বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল, জুলাই সনদে সেটি নেই।
৫. ১৫০(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্রান্তিকালীন বিধানাবলীর ৫ম তফসিলে ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা অংশটি বিলুপ্ত হবে।
৬. সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে বণিত মূলনীতি সমূহ হলো— বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে— সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি।
৭. সংবিধানের ১৪১ (ক)(খ) ও (গ) অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ গোলযোগের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ও অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বা মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শব্দ প্রতিস্থাপিত হবে। জরুরি অবস্থা জারিতে মন্ত্রীসভার অনুমোদন ও এ সংক্রান্ত অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের অধিকারকে খর্ব করা যাবে না।
৮. সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে সেই অনুচ্ছেদ যুক্ত হবে— সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
৯. মৌলিক অধিকারের বর্তমান যে পরিধি তা বাড়ানো হবে।
১০. বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।
১১. বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
১২. রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে।
১৩. আগে সরকারের অনুমোদনে যেকোনো অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে— শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
১৪. বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদের কোনো সময়সীমা নেই। জুলাই সনদে একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৫. বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান থাকতে বাঁধা নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে একইসঙ্গে দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধান থাকতে পারবেন না।
১৬. বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে।
১৭. বর্তমানে এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ থাকলেও জুলাই সনদে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের কথা বলা হয়েছে। যা নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) ও উচ্চ কক্ষ (সিনেট) নামে পরিচিত হবে।
১৮. নিম্ন কক্ষের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল সমূহের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হার অনুযায়ী ১০০ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ কক্ষ গঠিত হবে।
১৯. উচ্চ কক্ষে অনাস্থা প্রস্তাব ও অর্থ বিলে (যেমন বাজেট) পাশ হতে হবে না। অন্যান্য বিল সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান না করলে তা পাশ হয়েছে বলে গণ্য হবে। উচ্চ কক্ষ থেকে একবার ফেরৎ আসা বিল দ্বিতীয়বার নিম্ন কক্ষে পাশ হলে তা আবার উচ্চ কক্ষে যাবে না।
২০. উচ্চ কক্ষের সদস্যরা সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা আছে সেই যোগ্যতা সম্পন্ন হবেন।
২১. জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বর্তমানে পঞ্চাশের স্থলে ক্রমান্বয়ে একশ’য় উন্নীত করা হবে।
২২. সাধারণ আসনে কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী মনোনয়ন দেবে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে এটা বাধ্যতামূলক নয়।
২৩. আইনসভার একজন ডেপুটি স্পিকার সরকার দলে বাইরে থেকে নিতে হবে।
২৪. গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হবেন বিরোধী দল থেকে।
২৫. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দানের ক্ষমতা নেই। জুলাই সনদে শুধু অনাস্থা প্রস্তাব ও বাজেট বাদে নিজ দলে বিপক্ষে সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন।
২৬. এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে— রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করতে হবে।
২৭. সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকলেও গণভোটে জুলাই সনদ পাশ হলে একক কর্তৃত্ব হারাবে ইসি। তখন ইসির সাথে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে।
২৮. বর্তমানে প্রধান বিচারপতি কাদের মধ্য থেকে নিয়োগ হবে তা স্পষ্ট না থাকলেও জুলাই সনদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।
২৯. জুলাই সনদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি প্রধান বিচারপতি হবেন।
৩০. আপিল বিভাগে বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রধান বিচারপতি চাহিতমতে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে।
৩১. সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কাউন্সিল থাকবে।
৩২. সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগে কমিশন থাকবে।
৩৩. বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
৩৪. ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন করা হবে।
৩৫. বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের শক্তিশালী ও এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হবে।
৩৬. অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে।
৩৭. সুপ্রিম কোর্ট ও জেলা ইউনিটে স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস চালু করা হবে।
৩৮. নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী দল ও বিরোধী দলীয় নেতাসহ ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি সুপারিশ করবে।
৩৯. ন্যায়পাল নিয়োগে সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতাসহ ৭ সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে।
৪০. পিএসসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগে সরকার দল ও বিরোধী দলে প্রতিনিধিসহ ৭ সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে।
৪১. মহা হিসাব নিরীক্ষক নিয়োগে সরকার দল, বিরোধী দলের প্রতিনিধিসহ ৭ সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে।
৪২. দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগে সরকার দলের প্রতিনিধিসহ ৭ সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে।
৪৩. সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংবিধান সংশোধন করা হবে।
৪৪. স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে।
৪৫. স্থানীয় সরকার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বাধীন হবে।
৪৬. সরকারি কর্মকর্তাদের স্থানীয় সরকারের অধীনে ন্যস্ত করা হবে।
৪৭. স্থানীয় সরকারে নিজস্ব তহবিল থাকবে।
৪৮. সংসদ, সংসদীয় কমিট ও কমিটির সদস্যদের অধিকার ও দায় সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত বাংলাদেশের সংবিধান বদলানোর একটি বড় পরিকল্পনা। অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ নামে যে খসড়া প্রস্তাব করেছে, সেটির ওপর জনগণের মতামত জানতেই গণভোটের কথা বলা হয়েছে। গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকবে এবং মানুষকে শুধু হ্যাঁ বা না বলতে হবে। এই সনদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— যদি গণভোটে মানুষ সমর্থন দেয়, তাহলে পরবর্তী সংসদ সদস্যরাই একসঙ্গে সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হবেন। তারা ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করবেন। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলেও সংশোধনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাস হয়ে যাবে। বিষয়টি অনেকের কাছে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে, কারণ এতে আলোচনা ও বিরোধিতার সুযোগ কমে যেতে পারে।
তারা বলেন, সনদে যেসব পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তার বড় অংশই ক্ষমতা এক জায়গায় না রেখে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব। যেমন— প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করা, একই ব্যক্তি একসঙ্গে দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধান না থাকা, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা, সংসদকে দুই কক্ষের করা এবং বিরোধী দলের ভূমিকা বাড়ানো। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুদক, পিএসসি ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একক ক্ষমতার বদলে সরকার ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক স্বাধীন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
একই সঙ্গে সংবিধানের কিছু মৌলিক জায়গায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বদলে নাগরিক পরিচয়ের কথা বলা হয়েছে, সংবিধানের মূলনীতিতে নতুন শব্দ যোগ হচ্ছে, এমনকি ১৯৭১ সালের কিছু সাংবিধানিক উল্লেখ বাদ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এসব বিষয় রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। সব মিলিয়ে, জুলাই জাতীয় সনদ রাষ্ট্র চালানোর নিয়ম নতুন করে সাজানোর চেষ্টা। এটি যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। তবে এতগুলো পরিবর্তন একসঙ্গে করা বাস্তবে কতটা সহজ হবে, তা নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সূত্র; বাংলা নিউজ




